পৃথীবির নিশ্বার্থ ভালবাসার সম্পর্কের মধ্য মা সন্তানের ভালবাসা অন্যতম। মা স্বার্থ ছাড়াই তার সন্তানকে ভালবাসে। সন্তানের জন্মের পর থেকে আগলে রেখে লালন - পালন সুশিক্ষায় গড়ে তোলার জন্য বিশেষ অভিভাবকের ভূমিকায় ও মা। ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ভাবে ও মা শব্দটি বিশ্বজনীন গৃহীত। পৃথীবিতে এই সম্পর্ক ব্যতীত আর কোন সম্পর্ক নেই যা নিশ্বার্থ সরূপ। সব সম্পর্কেই স্বার্থ নিহিত।
সিনেমাকেও হার মানায় কারও কারও জীবনের গল্প। ডেনমার্কের বাসিন্দা ডেভিড নীলসনের ক্ষেত্রেও ঘটল এমনি এক ঘটনা।
আর তাই তো ৪১ বছর পর ভারতে এসে মাকে খুঁজে পেলেন তিনি। ডেনমার্কের বাসিন্দা ডেভিড নীলসন তার মাকে খুঁজেছেন বহুকাল ধরেই। একটি সাদাকালো ছবি নিয়ে গত ৬ বছর ধরে তার মা ধনলক্ষ্মীর খোঁজ শুরু করেন ডেভিড। নানাভাবে খোঁজ করে অবশেষে মানালিতে তার মায়ের সন্ধান মেলে।

সুদূর ডেনমার্ক থেকে সোজা মানালি মায়ের কাছে চলে আসেন ডেভিড। ভারতীয় মায়ের বিদেশি সন্তান। আসলে নামটুকুই বিদেশি, এর পেছনে রয়েছে এক মন খারাপ করা গল্প। ডেভিড তার মায়ের সঙ্গে তামিলনাড়ুর পল্লাভরমের একটি শিশু সদনে ছিলেন। সেখানে ডেভিডের মাকে না জানিয়েই দত্তক দিয়ে দেয়া হয় তাকে এবং যখন ডেভিডের বয়স মাত্র দুই বছর তাকে ডেনমার্কের এক দম্পতি দত্তক নিয়ে বিদেশে চলে যান।

ডেভিডের বয়স এখন ৪৩, পেশায় বন্ড ট্রেডার। মায়ের একটি সাদা কালো ছবির সাহায্যেই তাকে খুঁজে পান ডেভিড। ডেভিড নীলসন বলেন, এটি আমার জন্য খুব আবেগময় মুহূর্ত। বন্ধু ও পরামর্শদাতাদের সাহায্যেই মাকে খুঁজে পাই আমি। ডেভিড প্রথমবার নিজের মায়ের সঙ্গে অক্টোবর মাসে ভিডিওকলে কথা বলেন। ধনলক্ষ্মী মানালিতে লোকজনের বাড়িতে কাজ করেন এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান সরবাননের সঙ্গেই থাকেন।

চেন্নাই কর্পোরেশনের তথ্য অনুসারে ডেভিডের জন্ম হয় ১৯৭৬ সালের ৩ আগস্ট এবং তার মা ধনলক্ষ্মী ও বাবার কালিয়ামূর্তি। ধনলক্ষ্মী ও তার স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় তারা নিজেদের দুই সন্তানকে পল্লভারমের চাইল্ড হোমে দিয়ে দেন এবং তিনি নিজেও সেখানেই থাকতে শুরু করেন।

একদিন সেখানকার প্রশাসন ধনলক্ষ্মীকে ওই হোম ছাড়তে বলেন। তারা জানান, তার সন্তানকে অন্য কেউ দত্তক নিয়েছেন। তাদের পরে আরও জানানো হয় যে, তাদের দুই সন্তান ডেনমার্কে ভালোই রয়েছে। মাকে খুঁজে পাওয়ার পর ডেভিড তার বড় ভাই রাজন সম্পর্কে জানতে চান। তিনি জানতে পারেন রাজনকে ডেনমার্কেরই এক পরিবার দত্তক নিয়েছিল এবং রাজনের নাম এখন মার্টিন ম্যানুয়েল রসমুসেন।

শিখরের সন্ধানে সূদর ডেনমার্ক থেকে ভারতে ডেভিড। পরিবার-পরিজন থেকে বহু দিন ছিন্ন ছিল তিনি। প্রকৃত অর্থে যতই সুখ শান্তিতে পরিপূর্ণ থাকুক না কেন মানুষ তার শিখরের সন্ধান করে। পেতে চায় তার সত্য পরিচয়। কোন প্রকার সুখ শান্তির সঙ্গে সত্য পরিচয়ের কোন তুলনা হয় না। তাই সত্য শিখরেরে সন্ধানে ডেভিড। অবশেষে খুঁজে পেলেন সত্যে সন্ধান।