Strict Standards: Only variables should be assigned by reference in /home/mugdho/public_html/plugins/content/mbvopengraph/mbvopengraph.php on line 198

 


 
প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে একে একে নিজের তিন সন্তানকে খুন করেছেন শাহজাহান মিয়া ওরফে সাজু মিয়া মিয়া নামে এক বাবা।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুঁড়িঘর গ্রামের সাজু মিয়া পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেছেন।
 
নিজের ছোট ছেলে ১০ বছর বয়সি মো. মুজাহিদকে হত্যার পর তিনি রবিবার রাতে নবীনগর থানা পুলিশের কাছে ও সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মো. সোহাগ উদ্দিনের আদালতে জবানবন্দি দেন। এর মধ্য দিয়ে গত প্রায় ২৫ বছর ধরে চলতে থাকা খুনের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
 
এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২৪-২৫ বছর আগের সাজু মিয়ার ছেলে উবায়দুলের লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে। তখন উবায়দুলের বয়স ছিল তিন বছর। ৮/১০ বছর আগে তার ছোট ভাই তিন বছর বয়সী রাকিবের লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে। প্রথম ঘটনায় এলাকার সাজেদ আলী ও কুদ্দুস আলীসহ অনেককে দায়ী করা হয়। এ ঘটনায় মামলাও হয়। পরে গ্রাম্য সালিসে অভিযুক্তদেরকে জরিমানা করা হয়। রাকিবের মৃত্যুর পর সাজু মিয়া কাউকে দোষারোপ করেনি। তখন উল্টো সাজু মিয়ার বিরুদ্ধেই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠে। সপ্তাহ দুয়েক আগে সাজু মিয়া তার একমাত্র মেয়েকেও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মেজবাহ উদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, শিশু মুজাহিদ হত্যার ঘটনায় তার মা সাহানা বেগম বাদী হয়ে রবিবার রাতে সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাজু মিয়া তিন সন্তানকে হত্যার কথাই স্বীকার করেছেন। মুজাহিদকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার পর মাটির ঢেলা দিয়ে মুখে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। অন্যকে ফাঁসিয়ে টাকা আদায় করতেই সে এসব ঘটনা ঘটায় বলে আমাদেরকে জানায়। এটা তার একটা মিনিয়া।
 
ওসি আরো জানান, রবিবার দুপুরে পুলিশ নবীনগর উপজেলার কুঁড়িঘর গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন বিলের পাড় থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ১০ বছর বয়সী শিশু মুজাহিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে মুজাহিদের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেলে গ্রামের কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
 
taza-khobor

News Page Below Ad