দক্ষিন এশিয়ার অন্তভূক্ত দেশ নেপাল। চীন- ভারতের সাথে নেপালের সীমান্ত এর বিশেষ সংযোগ রয়েছে। এই নেপালে অসংখ্যা পর্বত শৃঙ্গ রয়েছে। সারা বিশ্ব জুড়ে সর্বোচ্চ ১০ টি পর্বতের ৮ টি অবস্থিত এই নেপালে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এই নেপালেই অবস্থিত। অনেকেই এই এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেছেন। বাংলাদেশীরা ও পিছিয়ে নেই এই এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় এর ক্ষেত্রে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অন্নপূর্ণা ও মানাসলু অঞ্চলের মাঝে রয়েছে ৭,১২৬ মিটার উঁচু ’হিমলুং’ শিখর। বাংলাদেশের দুই পর্বতারোহী গত ৫ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে ৮ অক্টোবর নেপালের কোটো থেকে ট্রেকিং শুরু করেন। ১২ অক্টোবর বেস ক্যাম্পে ১৫,৯১২ ফুট পৌঁছান। পর্বতারোহী দু’জন ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে ক্যাম্প-১, ক্যাম্প-২ এবং ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত আরোহণ করেন।

২৩ অক্টোবর ভোর ৪টায় ক্যাম্প-৩ থেকে দুই শেরপা গাইডকে সাথে নিয়ে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসের মধ্যে বাংলাদেশের দুই পর্বতারোহী চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা পর উড়ন্ত তুষার কণায় এম এ মুহিত চোখে আঘাত পান। এক শেরপাকে সাথে নিয়ে ক্যাম্প-৩ এ নেমে আসেন।

অপর শেরপাকে সাথে নিয়ে ইকরামুল হাসান শাকিল আরোহণ অব্যাহত রাখেন। খাড়া হিমবাহের দেয়ালে স্থাপিত প্রায় ২,৩৮০ ফুট দীর্ঘ দড়িতে জুমার ক্লাইম্বিং শেষে ২৩ অক্টোবর নেপাল সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ’হিমলুং’ শীর্ষে আরোহণ করেন।

অভিযান পরিচালনা করে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। যৌথভাবে স্পন্সর করে ইস্পাহানি টি লিমিটেড ও আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেড। এ বিজয় উপলক্ষ্যে সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইকরামুল হাসান শাকিল অভিযানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

দক্ষিন এশিয়ার অন্তভূক্ত দেশ নেপালের পর্বত শৃঙ্গ জয়ে অনেক দেশ থেকে অনেকেই অংশ গ্রহন করে ইতিহাস এর সাক্ষী হতে চান। হিমলুং পর্বত শৃঙ্গ জয়ের আগে ও বাংলাদেশীরা পর্বত শৃঙ্গ জয় করেছে। বাংলাদেশীরা বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময় অংশগ্রহন মূলক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানিত করছে।