ইসলাম : সাধারণত কোন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল করিয়ে জানাযা পড়ানো হয় এবং তার পর দাফন করা হয়। কিন্তু মুসলমান হওয়ার পরও এক শ্রেণির মানুষের জানাযা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)। কপাল পোড়া সেই শ্রেণি কারা?

পবিত্র কুরআনে শুধুমাত্র মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, অথবা যে ব্যাক্তির মুনাফেকী সর্বজনবিদিত ছিলো এবং রসূল সা.-কে জানানোও হয়েছিল, সেরূপ ব্যক্তির জানাযা পড়া থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছিল।

রসূল (সা.) স্বয়ং আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়াননি। হাদিসে শুধু এতোটুকুই পাওয়া যায়। মুসলিম শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়ের শেষের দিকে হযরত জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে : ‘রসূল (সা.)-এর নিকট তীর বা বর্শার আঘাতে


আত্মহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তির লাশ আনা হয়। তিনি তার জানাযা পড়াননি।’

আবু দাউদ শরীফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও একটি হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমি এ ব্যক্তির জানাযা পড়াবোনা’।

তিরমিযী শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও এই মর্মে একটি হাদিস সন্নিবেশিত হয়েছে। হাদিসটি নিম্নরূপ : ‘হযরত জাবের বিন সামুরা জানান, এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছিল, রসূল সা. তার জানাযা পড়াননি।’

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বলেন যে, আত্মহত্যাকারীদের জানাযা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, প্রত্যেক মুসলমানের এমনকি আত্মহত্যাকারীরও জানাযা নামায জায়েয। ইমাম আহমদের মত হলো, নেতা ও শাসকের জানাযা পড়ানো ঠিক নয়। তবে অন্যদের পড়া উচিত।

সুনানে নাসায়ী থেকেও এই বক্তব্য সমর্থিত হয়। কেননা হাদিসে রসূল সা.-এর কেবল এতোটুকু কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ------------ ‘তার জানাযা আমি তো পড়াবোনা।’ এর তাৎপর্য অন্য কথায় এই দাঁড়ায় যে, রসূল সা. শুধু নিজেই জানাযা নামায থেকে বিরত থেকেছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কিরামকে পড়বার অনুমতি দিয়েছেন।

আত্মহননকারীর জানাযা পড়ার ব্যাপারটা ফিকাহ শাস্ত্রকারগণ ও হাদিসবেত্তাগণের মধ্যে বিতর্কিত এবং খোদ হানাফি ফিকাহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ বয়েছে। এর মধ্যে কারো মতে, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া জায়েয। তবে কেউ চাইলে নামাযে অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন। আবার কারো মতে, জায়েয নেই।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমােদর সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন

News Page Below Ad