ঘুটিয়ারি শরিফ: ’বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর’। প্রবাদের মর্মার্থ এটাই, বিশ্বাস থাকলে কালো পাথরেও ভগবানের দর্শন মেলে আর যুক্তি তর্কের দ্বন্দে কালো পাথর থাকে কেবলই কালো পাথরে। সবুজ রঙের জল। বাঁধানো পুকুর। চারিদিকে বসে আছেন সব বয়সের মানুষ। পুকুরের জলে হাত রেখে অধীর অপেক্ষা। একটা ফুল ভাসিয়ে দিয়েছেন সবাই, আর সবাই অপেক্ষা করছেন কখন ফুলটা হাতে ফিরে আসবে। সেকেন্ড মিনিট নয়। ঘন্টার পর ঘণ্টা এভাবেই কাটছে ঈশ্বরের প্রতি আর্তি জানিয়ে। ভাসিয়ে দেওয়া ফুল ফিরবেই। যাঁর ফিরল, ঈশ্বর তাঁর মনের কথা শুনেছেন, আর যাঁর হাতে ফুল ফিরে এলো না, তাঁর নিবেদন ঈশ্বর গ্রহণ করেননি। কোনও বিজ্ঞানেই মিলছে না যুক্তি। কীভাবেই বা জলে ডুবে যাচ্ছে ফুল, আর কীভাবেই তা ফিরে আসছে হাতে। কেবল বিশ্বাস। অগাধ বিশ্বাস। ঘুটিয়ারি শরিফে গাজী বাবার মাজারে মক্কার মাজারে ফুল চড়ানোর পর ফুল ফিরে এলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়, এমনটাই মানেন সবাই। 
১৭ শ্রাবণে মক্কার পুকুরে কেউ পা রাখতে পারেন না। চারিদিক থেকে পুকুর ঘিরে রয়েছে হজরত সৈয়দ শাহ্‌ গাজী মোবারকের (রা:) অগণিত ভক্তকুল। গর্ভে সন্তান প্রাপ্তির প্রার্থনা, কারোর প্রার্থনা মরণাপন্ন বাবার জীবন ফিরিয়ে দাও। কেউ এসেছেন নিজের হারিয়ে যাওয়া প্রেম আবার ফিরে পেতে। চোখ দুটো ওপরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝড়িয়ে দেওয়া আকাশে তাকানো আর হাত দুটো জলে ডোবানো। ’আজ তোমার দরবারে যখন এসেছি, খালি হাতে ফিরে যাবো না’, বলছেন সবাই।  
ঘুটিয়ারি শরিফে ’গাজী বাবা’র দরবারে আজ মানুষের মেলা। গোলাপ আর মোমবাতিধরা হাতগুলোর শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছে মক্কার পুকুর, গাজী বাবার মাজার। 
ফুল আর মোমবাতি বিক্রি করতে করতে বছর কুড়ির শাহির বলছিল, "কাউকে ফেরাবে না গাজী বাবা। ফুল চড়াও। ফুল ফিরবেই। পূর্ণ হবে মনস্কামনা"।  
 

News Page Below Ad