প্রতিদিনের মত রাতে ঘুমিয়ে পড়েছি । ফোন কলে ঘুম ভাঙল । বিষন্ন কন্ঠে কলার বললেন ইসলামী ব্যাংক দখল হয়ে গিয়েছে । আর কোন কথা বলতে চাইলেন না।
খবরটি আমার কাছে পুরাতন । এ রকম যে হবে তা আগেই দেখা যাচ্ছিল । এখন ষোলকলায় পূর্ণ হল মাত্র, তবুও বিস্ময় ও বেদনার । আজ দুদিনে বহু ফোন পেয়েছি বেদনার । এরা কেউই ব্যাংকের মালিক নন।

দুদিন ধরে খবরগুলি পড়ছিলাম । প্রথম আলো আজ বিস্তারিত লিখেছে । সবচেয়ে বড় বিষয় হল ইসলামী ব্যাংককে জামায়াতের প্রভাব মুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ইঙ্গিতেই সব কিছু হয়েছে বলে পত্রিকাটি লিখেছে।

নবনিযুক্ত ইসি চেয়ারম্যান জে: মতিন বলেছেন যে, ব্যাংকের কর্মকর্তারা সব জামায়াতের। কাজেই নিয়োগ পলিসি পরিবর্তন করা হবে। আগামী ১১-১২ জানুয়ারি সম্মেলনে এ সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হবে।

ব্যাংকটি এ বছরও দশ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। মাত্র গতমাসেই ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী এম ডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) লন্ডন থেকে ব্যাংকের জন্য পুরস্কার নিয়ে ফিরলেন।

এ সব কিছুই রিপোর্টে লেখা হয়েছে। কি দোষে ব্যাংকটি দখল তা কিন্তু বলা হয় নাই। যাদের প্রভাব মূক্ত করা হল তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।

আওয়ামী লীগের জন্য দখলের ইতিহাস নতুন নয়। কিন্তু পরিনতি সুখকর নয়। একটা প্রতিষ্ঠানও তারা চালাতে পারে নাই। সবাই চাকুরী হারিয়েছে । অবশেষে তা পরিত্যক্ত হয়েছে। সরকারী নিলামে পানির দামে জায়গার মালিক হয়েছে দলের লোকেরা।

ইতিমধ্যেই মন্তব্য পাওয়া গিয়েছে অর্থনীতিবিদের । তাদের মতে অতিতে যেসব ব্যাংক দখল করা হয়েছে তার একটাও ভাল চলছেনা। গ্রামীণ ব্যাংক তার শেষ উদাহরণ।

আসলে জামায়াত ব্যাংকের জন্য কি করেছিল। জামায়াতের কাজ ছিল ইসলামী ব্যাংকিংয়ের চিন্তা দেয়া । দেশী বিদেশী যোগাযোগে সাহায্য করা । উদ্দেশ্যে একটাই দেশে ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠা করা । আজ ইসলামী ব্যাংকিং একটা বাস্তবতবতা। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে ইসলামী ব্যাংকিং হলো সব চেয়ে সফল ব্যাংকিং। এ ব্যাংকিং জনগনের কাছে সবচেয়ে বেশী গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে।

আসলে ইসলামী ব্যাংককেই বলা যায় জনগনের ব্যাংক। যার ফলে দেশে এখন অনেকগুলো ইসলামী ব্যাংক। যারা সব সময় বলেন যে, ইসলামী ব্যাংকিং আবার কি জিনিস, তাদের এ সব সহ্য হবে না এটাই স্বাভাবিক । শুধু তাই নয় ইসলামী ব্যাংকের সহযোগীতায় নাইজেরীয়ায় জায়েজ ব্যাংক নামে একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভোর হোক পেঁচা তা চায় না- তবু ভোর হয়।

এ দখল পদক্ষেপের ফলাফল কি হতে পারে সপ্নসররা তাদের শেয়ার বিক্রি করে ফেলবেন । ইতোমধ্যেই বিদায়ী চেয়ারম্যান ও একজন সপ্নসর তার শেয়ার বিক্রী করেছেন। ইতিপুর্বে কয়েকজন বিদেশী সপ্নসর তাদের শেয়ার বিক্রি করেছেন । বাকীরা হয়ত এমনই ভাববেন । আই ডি বিসহ বিদেশী ফাইনেনস হাউজগুলো কি বার্তা পাবে ভেবে দেখতে হবে ।

আমারা যখন বিদেশী বিনিয়োগ চাচ্ছি তখন এ সব আচরনের সূদুর প্রসারি ফলাফল কি হবে তা ভেবে দেখা দরকার। যারা খুব খুশী হয়েছেন তাদের ভাবতে হবে এটা শুধু জামাতের বিষয় নয়। বিদেশী print and electronic media তে এ সব নিয়ে আলোচনা হবে।

কর্মকর্তারা তাদের চাকুরী হারাবেন । যারা থাকবেন তারা পদোন্নতি পাবেন না । নিজেদের গুরুত্ব হারাবেন। যখন সপ্নসররা তাদের শেয়ার বিক্রি করে ফেলেন তখন সাধারণ আমানতদাররা টাকা তুলে ফেলতে পারেন। কারণ বিশ্বাস যাদের উপর তাঁরাই যখন নাই তখন টাকা রাখার যুক্তি কোথায়? টাকা তোলার হিরিক পড়তে পারে ।

শেয়ার বাজারের প্রতিক্রিয়া কি হয় তাও দেখতে হবে। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন একমাত্র ব্যাংক খুব কম টাকায় চিকিৎসা চালু করেছেন । এর হাসপাতালে রুগীর ভীড় দেখলে তা সহজে বুঝা যায় ।

সুদমুক্ত ঋন আর একটি বিরাট অবদান। সামনের দিনে এ সব কিছু কোন দিকে যায় তা দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

ব্যাংকের প্রাক্তন পরিচালকদের হারবার কিছু নাই । তারা উদাহরণ হয়ে থাকবেন তাদের সততা ও দক্ষতার জন্য । কমকর্তা ও কর্মচারীরা একইভাবে তাদের সততা ও দক্ষতা আন্তরিকতার জন্য সরনীয় থাকবেন। জামায়াত তার আদর্শিক লড়াইয়ে পূর্ণ বিজয়ী। তাদের হারাবার কিছু নেই । কারণ ইসলামী ব্যাংকিং এখন শুধু বাস্তবই নয়, দেশে বিদেশে একটা সফল ব্যাংকিং এর নাম।

পরিশেষে বলবো আজ হোক আর কাল হোক এ নিয়ে নির্মোহ আলোচনা অবশ্যই হবে। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।
আবু আব্দুল্লাহ
টাইম নিউজ বিডি,

News Page Below Ad