নাদীম কাদির
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। যখন আমি আমার এ লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম, তখন মনে মনে চিন্তা করলাম বছরের শুরুর লেখাটি কোনও হালকা বিষয়বস্তু হলে কেমন হয়। ভাবলাম, এমন কিছু লিখি যা কিছুটা হাসির খোরাক জোগাবে। মজার ব্যাপার হলো, যে বিষয় মাথায় এলো তা আমার জন্মদিন আর এ দিনে ফেসবুক ও ফোনে পাওয়া নানা শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে। অবশ্যই জন্মদিনে অনেক ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলাম।
যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করছিল যে এ জন্মদিনে আমি কত বছরে পা রাখলাম, তখন আমার দুটি উত্তর ছিল। একটি হলো ‘আমার বয়স এক বছর কমে গেলো’ কিংবা ‘আমি ২৫-এই আটকে আছি’। আমি জানিনা তা কেন কিন্তু আমি মনে করি ২৫ বছর বয়সে আমি যেমন তেজোদীপ্ত ছিলাম এখনও তেমন আছি এবং প্রতি বছর আমি ছোট হচ্ছি।
ভক্তদের অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমার ছেলেমেয়ে কয়জন এবং আমি কেন ফেসবুকে আমার স্ত্রীর ছবি দিই না। জবাবে প্রথমত আমি বলি আমার ১০ সন্তান, কিন্তু তাদেরকে পাওয়ার জন্য আমার স্ত্রীর প্রয়োজন হয়নি। আমার জন্য তাদের প্রেম কিংবা তাদের জন্য আমার প্রেম এতটাই গভীর যে অনেকে আমাকে আব্বু কিংবা বাবা বলে ডাকে, যদিও তাদের জন্মদাতা পিতা আমি না। তবে আমি তাদেরকে নিজের সন্তানের মতোই দেখি বলে আমার ধারণা। অন্তত চেষ্টা করি।
অন্য আরেকটি সন্তান হলো আমার ছোট ভাই নাভীদ, তার স্ত্রী এবং সন্তানরা....১৫ সদস্যের পরিবার। যখন আমার ভক্তরা জানতে পারে আমি অবিবাহিত, তখন শুরুতে তাদের মাথায় প্রশ্ন আসে বিয়ে ছাড়া জীবন পূর্ণ হবে কিনা, কোনও নারী আমাকে ছেড়ে গেল কিনা, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ কিনা।
আমাদের মনোভঙ্গিটা এমন আঁটোসাঁটো যে তার থেকে বের হয়ে চিন্তা করতে পারি না এবং মনে করি মানুষকে অবশ্যই বিয়ে করতে হবে এবং তার পরিবার থাকবে। ঠিক আছে, সেটা সামাজিক ব্যবস্থা, কিন্তু কেউ যদি মনে করে বিয়ে করা ছাড়া ভালো আছে এবং জীবনের আনন্দের পথ খুঁজে নিতে পারে তাহলে তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই। আমি জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি এবং কখনও অবিবাহিত থাকার জন্য অনুশোচনায় ভুগতে হয়নি। কেননা, আমি এক মিনিটেই চাকরি ছাড়ার কথা ভাবতে পারি। ব্যাংকে আমার পরিমিত সঞ্চয় আছে এবং সেগুলো বর্ষাকালীন দিনগুলোর জন্য বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন, এই সত্যটিকে উপেক্ষা করেই বিশ্বের যেকোনও জায়গায় ভ্রমণের সিদ্ধান্ত আমি ৫ মিনিটেই নিতে পারি।
তাছাড়া আমার বাবা শহীদ হওয়ার ৩৬ বছর পর আমি তার কবর খুঁজে পেয়েছি, কেননা আমি আমার সেই লক্ষ্যে অটল ছিলাম। কিন্তু আমার অন্য বিবাহিত ভাই-বোনরা কখনও এ ধরনের মিশনে নামার কথা ভাবতেও পারেনি।
একটি মেয়ে আমাকে ছেড়ে গিয়েছিল। যখন আপনারা তরুণ ছিলেন তখন হয় আপনারা নিজেরা কাউকে ছেড়ে গেছেন কিংবা কেউ আপনাদের ছেড়ে গেছে। সম্ভবত, সত্যিকারের প্রেম আমার কাছেই আসেনি এবং আমি আমার ‘দোস্ত’ দের সঙ্গে এবং তাদের ভালোবাসা, শুভ কামনা আর মজাদার খাবার নিয়ে ভালো আছি।
এমনকি বিগত প্রেমিকরাও এখন আমার ভালো সঙ্গী। তারুণ্যের দিনগুলোতে কোনও কিছু না বুঝেই প্রেমে পড়া এবং প্রেম ভেঙে দেওয়ার সে ঘটনাগুলো মনে করে এখন আমরা হাসাহাসি করি। আর যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার প্রশ্ন আসে তবে বলবো গুলিস্তান এলাকায় সব রোগের ভেষজ চিকিৎসা পাওয়া যায়! গাছের রস থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের তেল পড়া পাওয়া যায় সেখানে! হা!হা!হা!

সবশেষে একটি ছোট নোট: আমার বয়স যখন ৩০ বছর তখন আমার কাছে জানতে চাওয়া হলো বয়স ৫০ বছর যখন হবে তখন স্ত্রী ছাড়া আমার দিন কিভাবে কাটবে। আর এখন আমাকে বলা হয়, বয়স যখন ৮০ হবে তখন স্ত্রী ছাড়া কিভাবে চলব। ৫০ বছরে আমি বেশ আছি (আল্লাহর কাছে শুকরিয়া) এবং আশা করি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকলে একইরকম থাকব।

আমার জন্য দোয়া করবেন.....সুখী ব্যাচেলর। শুভ জন্মদিন মকর রাশির জাতকরা, বিশেষ করে যারা আমার মতো অবিবাহিত আছেন। মজা করুন, আপনারা এক জীবন পেয়েছেন।

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার

taza-khobor

News Page Below Ad