Strict Standards: Only variables should be assigned by reference in /home/mugdho/public_html/plugins/content/mbvopengraph/mbvopengraph.php on line 198

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে বাংলাদেশে পাচার করছে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-জেএমবি। বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের তথ্যনুযায়ী ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা-এনআইএ জানিয়েছে এ তথ্য।
সোমবার ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খ এ খবর দিয়েছে। পত্রিকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার মোহাম্মাদপুর বেড়িবাঁধে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ নুরুল ইসলাম মারজানের ডায়েরিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের গোয়েন্দারা ভারতীয় গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, নিহত মারজানের ডায়েরিতে লেখা আছে, চার জেএমবি জঙ্গি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে সেগুলি পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে। এর চারজনই নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা। ওই চারজনের নাম এনআইএ-এর মোষ্ট ওয়ান্টেড তালিকাতেও রয়েছে।

গুলশান হামলার পর র‌্যাব ১০ জন জঙ্গির একটি তালিকা ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠায়। ওই ১০ জনই ছিল নয়া জেএমবির শীর্ষনেতা। তাদের ছবি দিয়ে বলা হয়, এরা প্রত্যেকই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় লূকিয়ে রয়েছে। ওই দশ জঙ্গির মধ্যে ছ’জনকে পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়-কা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর অক্টোবরে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের গোয়েন্দারা গ্রেফতার করেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে।


বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা যে চারটি নাম পাঠিয়েছে সেগুলি হল, শরিফুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, জায়নাদ খান এবং সোহেল মাহফুজ। শরিফুল এদের নেতা। ঢাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মারজানের ডায়েরিতে পাওয়া গিয়েছে, ওই চার নব্য জেএমবি জঙ্গি পশ্চিমবঙ্গ থেকে একে ২২ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে বাংলাদেশে পাচার করছে। সেই অস্ত্র বাংলাদেশে যাচ্ছে রাজীব নামে এক ব্যক্তির কাছে। এই রাজীবের আসল নাম কী তা বাংলাদেমের গোয়েন্দারা জানাতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মারজানও শুলশান হামলার পরে পালিয়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু নব্য জেএমবির সঙ্গে পুরনো জেএমবির একটা সমঝোতা বৈঠকে যোগ দিতে সে কিছুদিন আগে আবার দেশে ফিরে আসে। তারপরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তার মুত্যু হয়।
ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ সূত্রের বরাতে যুগশঙ্খ লিখেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বেশ কয়েকটি অস্ত্র কারখানা রয়েছে। ওই সমস্ত অস্ত্র কারখানায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে ‘মুঙ্গেরি ওস্তাদ’রা।


গুলশান হামলায় যে সমস্ত একে ২২ অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহৃত হয়েছিল, সেগুলিও তৈরি করেছিল মুঙ্গেরি ওস্তাদরাই। তবে ওই সমস্ত স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র কী করে তৈরি করতে হয়, তা তাদের শেখাতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের তত্ত্বাবধানে পাকিস্তানি অস্ত্র নির্মাতারা পেশোয়ার থেকে ভারতে এসেছিল। তারাই একে সিরিজের সবচেয়ে হালকা আগ্নেয়াস্ত্রটির নির্মাণকৌশল শিখিয়ে গিয়েছিল মুঙ্গেরি ওস্তাদদের। এনআইএ গোয়েন্দাদের দারণা, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তবর্তী কোনও জেলা থেকেই ওই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি তৈরি করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। যে চার জঙ্গি এখানে এই অস্ত্রপাচারের কাজ করছে, তারা প্রত্যেকেই ভারতীয় নাগরিক হিসাবে পরিচয়পত্র জোগাড় করে ফেলেছে। যেমন, খাগড়াগড় কারাগারে গ্রেফতার ছ’জন জঙ্গি জোগাড় করেছিল।


এনআইএ সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী তিনটি জেলা নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং মালদায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ এবং মালদার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি দুর্গম এবং নদী অধ্যুষিত। সেই কারনেই সেখানে গোপন কারখানা তৈরি করে অস্ত্রনির্মাণ করা সম্ভব। মালদার চর এলাকাগুলি তো রীতিমতো দুর্গম। গঙ্গা পেরোলেই ঢুকে পড়া যায় বিহারে এবং পদ্মা পেরোলেই ঢুকে পড়া যায় বাংলাদেশে।
taza-khobor

News Page Below Ad