বাংলাদেশে মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড১৯ ভাইরাসের সংক্রমন। এই ভাইরাসের প্রকোপে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আবার মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে রয়েছে চাল,তেল। তবে এই সকল পন্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য আপ্রান ভাবে কাজ করছে সরকার। এবং এবার ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ ঘোষণা দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেলের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সামনে রমজান মাস, বর্তমানে যথেষ্ট মজুদ আছে। সব হিসেব-নিকেশ করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়। শক্ত হাতে দাম নিয়ন্ত্রণ করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দাম কমে গেলে বিবেচনা করা হবে, বেড়ে গেলেও বিবেচনা করা হবে। আমরা যে তেল ব্যবহার করি তার ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়।

তিনি বলেন, প্রতি লিটার সয়াবিন (খোলা) মিল গেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিল গেট মূল্য ১২৩ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১২৭ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১৩৫ টাকা। ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিল গেট মূল্য ৫৮৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৬০০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৬২৫ টাকা। আমাদের দেশে যে তেল ব্যবহার করি তার ৭০ শতাংশ পাম সুপার, যার প্রতি লিটার মিল গেট মূল্য (খোলা) ৯৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৯৮ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১০৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে গত ৬ মাসে ৬৫ শতাংশ তেলের দাম বেড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ’শিপিং কস্টও বেড়েছে এছাড়া জাহাজের তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামতেলের আমদানিতে আরোপিত ভ্যাট ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনা আরও বেশি যৌক্তিকহারে নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভোজ্য তেলের মূল্য অস্থিতিশীল থাকায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা প্রতি মাসেই আয়োজন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার করোনায় সৃষ্ট সকল সংকট মোকাবিলায় নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মানুষের সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভাবে কাজ করছেন। সম্প্রতি মিয়ানমার এবং ভারত থেকে বিপুল পরিমানের চাল আমদানি করেছে সরকার চলের চাহিদা এবং দম নিয়ন্ত্রনে।
অবশেষে ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিল সরকার
Logo
Print

Wednesday, 17 February 2021 জাতীয়

 

বাংলাদেশে মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড১৯ ভাইরাসের সংক্রমন। এই ভাইরাসের প্রকোপে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আবার মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে রয়েছে চাল,তেল। তবে এই সকল পন্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য আপ্রান ভাবে কাজ করছে সরকার। এবং এবার ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ ঘোষণা দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেলের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সামনে রমজান মাস, বর্তমানে যথেষ্ট মজুদ আছে। সব হিসেব-নিকেশ করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়। শক্ত হাতে দাম নিয়ন্ত্রণ করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দাম কমে গেলে বিবেচনা করা হবে, বেড়ে গেলেও বিবেচনা করা হবে। আমরা যে তেল ব্যবহার করি তার ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়।

তিনি বলেন, প্রতি লিটার সয়াবিন (খোলা) মিল গেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিল গেট মূল্য ১২৩ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১২৭ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১৩৫ টাকা। ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিল গেট মূল্য ৫৮৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৬০০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৬২৫ টাকা। আমাদের দেশে যে তেল ব্যবহার করি তার ৭০ শতাংশ পাম সুপার, যার প্রতি লিটার মিল গেট মূল্য (খোলা) ৯৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৯৮ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১০৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে গত ৬ মাসে ৬৫ শতাংশ তেলের দাম বেড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ’শিপিং কস্টও বেড়েছে এছাড়া জাহাজের তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামতেলের আমদানিতে আরোপিত ভ্যাট ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনা আরও বেশি যৌক্তিকহারে নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভোজ্য তেলের মূল্য অস্থিতিশীল থাকায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা প্রতি মাসেই আয়োজন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার করোনায় সৃষ্ট সকল সংকট মোকাবিলায় নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মানুষের সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ভাবে কাজ করছেন। সম্প্রতি মিয়ানমার এবং ভারত থেকে বিপুল পরিমানের চাল আমদানি করেছে সরকার চলের চাহিদা এবং দম নিয়ন্ত্রনে।
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.