করোনা ভাইরাসের তান্ডবে বিশ্বের ধনী-গরীব সকল দেশই বিভিন্ন ভাবে ক্ষতির কবলে পড়েছে। তবে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে এই ভাইরাস থেকে পরিত্রান পাওয়া সহ এই ভাইরাসে সৃষ্ট সকল সংকট নিরসনের জন্য আপ্রান ভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলাসহ ৬টি প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য জাপানের কাছে আর্থিক সহযোগীতা চেয়েছে।
করোনা মোকাবিলাসহ ৬টি প্রকল্পে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) প্যাকেজ থেকে দেশটির চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) থেকে আর্থিক সহযোগীতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির সঙ্গে ৪২তম ঋণ প্যাকেজ নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। সেখানে এই সহযোগীতা চাওয়া হয়। গত জাপানি অর্থবছরে এই প্যাকেজ থেকে বিশ্বের ৭০টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৩৯৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পেয়েছিল বাংলাদেশ।

সহযোগীতা চাওয়া প্রকল্পগুলো হলো- ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন ১ (সেকেন্ড ট্রান্স), ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট লাইন ৬, মাতারবাড়ি কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট পলিসি লোন এবং করোনা মোকাবেলায় বিশেষ ঋণ সহযোগীতা। ইআরডির জাপান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক বলেন, ’জাপানের পরবর্তী ওডিএ প্যাকেজে ছয়টি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। এই ছয় প্রকল্পের জন্য কত টাকা দেবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। অর্থের পরিমাণ জাপান সরকার নির্ধারণ করবে।’ তবে ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ঋণ প্যাকেজে বাংলাদেশকে নামমাত্র সুদে ২৯ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারে। পুরো অর্থই জাপানের ৪২তম ওডিএ ঋণ প্যাকেজ থেকে দেওয়া হবে। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও ৪০ বছরের পরিশোধের শর্তে এই ঋণের সুদের হার হবে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অনেক উন্ননয়ন মূলক কাজ চলমান রয়েছে। এমনকি ইতিমধ্যে বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই সকল উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে। জাপান ও রয়েছে এই তালিকায়।